ঢাকাFriday , 6 October 2023
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন ও আদালত
  4. আজকের ভিডিও খবর
  5. উপজেলার খবর
  6. কুষ্টিয়া
  7. খেলাধুলা
  8. চুয়াডাঙ্গা
  9. জেলার খবর
  10. টপ নিউজ
  11. পর্যটন
  12. প্রবাসীদের খবর
  13. ফিচার
  14. বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
  15. বিনোদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রং-সুতা-কাঁচামালের অব্যহত দাম বৃদ্ধিতে বন্ধ হচ্ছে কুষ্টিয়ার তাঁত কারখানা

admin
October 6, 2023 2:52 pm
Link Copied!

নিজস্ব প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার জেলার প্রাচীন ঐতিহ্য কুমারখালীর বস্ত্রশিল্প। বর্তমানে রং-সুতাসহ কাঁচামালের দাম বৃদ্ধিতে বন্ধ হচ্ছে তাঁত কারখানা। ফিকে হয়ে যাচ্ছে তাঁতিদের স্বপ্ন। ৮/১০ বছর আগেও ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথেই তাঁতের খট খট শব্দে মুখর থাকত কুমারখালীর তাঁতীপাড়া। শোনা যেত তাঁতের খট খট অবিরাম শব্দ। কিন্ত কয়েক বছরেই পাল্টে গেছে এচিত্র। সাপ্তাহিক হাঁটে নেই ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁক ডাক আর কুলি-মজুরদের ব্যস্ততা। প্রতিনিয়ত বন্ধ হচ্ছে ছোট-বড় ফ্যাক্টরী। বেকার হচ্ছে সংশ্লিষ্টরা। যারা কোন মতো টিকে আছে, তারা মোটেও ভালো নেই। কুমারখালীর অর্থনীতিতে চরম ধ্বস নেমেছে। সরকারী ভাবে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার সময় এখনই।

 

তাঁতি ও তাঁত জরিপের সাথে জড়িতরা বলছেন, ২০১৯ সালে উপজেলায় তাঁতি পরিবারের সংখ্যা ছিল প্রায় ৫০ হাজার। কারিগর পাড়ায় তাঁতী পরিবারের প্রধান পেশা ছিল তাঁত ও তাঁত জাত বস্ত্র উৎপাদন। বর্তমানে মাত্র ৮/১০ হাজার পরিবার এ পেশায় জড়িত। রং-সুতাসহ কাঁচা মালের দাম বাড়ায় গত তিন বছরে তাঁতির সংখ্যা কমেছে সবচেয়ে বেশি।

 

কুমারখালী মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন বর্ননা মতে, ৪০ কাউন্টের প্রতি পাউন্ড সুতা ১৭৫ টাকা, ৫০ কাউন্টের পাউন্ড ২০০ টাকা এবং ৬০ কাউন্টের প্রতি পাউন্ড সুতা বিক্রি হচ্ছে ২৩০ টাকায়। প্রতি কেজি রং বিক্রি হতো তিন হাজার টাকা। কয়েক দফা বেড়ে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৬/৭ হাজার টাকায়। কয়েক বছরের সুতা-রংসহ কাঁচামালের দাম বেড়ে ২/৩ গুণ হয়েছে। বস্ত্র তৈরির অন্যতম উপাদান সাগু, তুতে মাকু, বওয়া, সানার দাম বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। সেই তুলনায় লুঙি-গামছার দাম বাড়েনি। লোকসান গুনতে গুনতে পুঁজি হারিয়েছে তাঁতিরা। জীবন যুদ্ধে টিকে থাকতে অনেকেই পৈত্রিক পেশা পাল্টাচ্ছে।

 

 

উপজেলার যদুবয়রার পুরাতন বাজার ও স্কুলপাড়ার তাাঁতী আতিয়ার রহমান বলেন, ৪০ বছর ধরে কাজ করছি। রং-সুতাসহ সবকিছুর দাম দ্বিগুণ হয়েছে। কিন্তু লুঙি-গামছার দাম বাড়েনি। এ কারণে এক সময়ের জমজমাট এ পেশা এখন ঐতিহ্য হারাচ্ছে। অন্য কাজের অভ্যাস নেই। সংসার চালাতে বাধ্য হয়ে এখনও কাজ করে যাচ্ছি। করোনা কালে ব্যাপক লোকসান হয়েছে। পুঁজি কম থাকায় এখন গামছা তৈরি করছি।

 

কেশবপুর এলাকার তাঁতী মুকুল ইসলাম বলেন, ‘আমার বাড়িতে তিন খানা তাঁত ছিল। অব্যহত লোকসান হওয়ায় পুঁজি হারিয়ে সেগুলো বিক্রি করে দেনা শোধ করেছি। এখন ভ্যান চালিয়ে সংসার চালাচ্ছি। ছেলেরা ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকুরী করছে।

 

পৌর এলাকার আগ্রাকুন্ডার তাঁতি মাজিদুর রহমান বলেন, উপকরণের দাম ২/৩ গুণ বাড়লেও সেই তুলনায় লুঙির দাম বেড়েছে মাত্র ১০ থেকে ১৫ টাকা।

 

তাঁতি লালন আলী জানান, সুতার দাম বেড়েছে অনেক। পোষা তেনা পেরে তাঁত বিক্রি করে এখন মুদি দোকান দিয়েছি। কুমারখালীর চিত্তরনজন ও সনাতনী পদ্ধতির গর্ত তাঁত অনেক আগেই হারিয়ে গেছে। পিটরুম কোন মতে চলছে আজও। বড় কারখানার মালিকেরা চিনের ফেলে দেওয়া শত বছরের বৈদ্যুতিক রিপিযার তাঁত আমদানী করে টিকে থাকার চেষ্টা করছে।

 

কুমারখালী তাঁত বোর্ডের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মেহেদী হাসান জানান, এলাকার তাঁত শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে ৩৪ কোটি টাকার আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে উৎপাদন শুরু হলে কাপড়ের মান বাড়ার পাশা পাশি দামও বাড়বে।

 

রানা টেক্সটাইলের পরিচালক শিল্পপতি মাসুদ রানা বলেন, তিন বছরে লুঙি-গামছার দাম বেড়েছে মাত্র ১০ থেকে ১৫ টাকা। এভাবে চলতে থাকলে কুমারখালীর তাঁত শিল্প হারিয়ে যাবে। তিনি সরকারি ভাবে দাম নিয়ন্ত্রণের দাবিও জানান। ১৫/২০ বছর আগেও কুমারখালীর বস্ত্র সারা দেশে সাড়া ফেলেছিল। কিন্তরং-সুতাসহ কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি, আধুনিক তাঁত যন্ত্রের অভাব, গ্যাস না থাকা, বাহিরের ব্যাপারীরা মুখ ফিরিয়ে নেয়াসহ নানান কারনে কুমারখালীর তাঁত শিল্প দিনদিন হারিয়ে যাচ্ছে। শতভাগ সূতির পাট্টা বেড সীড-পি লোকভার হয়েছে বিলুপ্ত। মোটা সূতির লুঙি এখন আর চলে না। প্রিন্ট বেড সীডের নামে চলছে ফাঁকি। অনেকেই বাইরের থেকে টিকন সূতির লুঙি ও প্রিন্ট বেড সীট আমদানী করে নিজেদের নামে বাজার জাত করে কোনোমতে ঠিকে আছে। কুমারখালীর বস্ত্রশিল্পের গৌরব ফেরাতে সরকারী ভাবে প্রকল্পগ্রহন ও সঠিক বাস্তবায়ন এখন সময়ের জরুরি দাবী।

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।