রবিবার, ২৫ জুলাই ২০২১, ০৩:৫৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম
শিরোনাম
কু্ষ্টিয়া প্রেসক্লাব কেপিসি’র সাধারন সম্পাদক সোহেল রানা’র ছোট বোনের দাফন সম্পন্ন কুষ্টিয়া ছাত্রলীগের সভাপতি আতিকুর রহমান অনিককে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি চালায় খলিসাকুন্ডির মসজিদে মসজিদে পবিত্র ঈদুল আজহার জামাত খলিসাকুন্ডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান শিক্ষক রমজান আলী আর নেই দৌলতপুরে সাবেক এম.পি আফাজ উদ্দিনের দাফন সম্পন্ন সাবেক সংসদ সদস্য আফাজ উদ্দিন আহমদের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক দৌলতপুরে পুলিশের অভিযানে ২ কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক বর্ষিয়ান আওয়ামীলীগ নেতা আফাজ উদ্দিন আহমেদের মৃত্যুতে হানিফ এমপি’র শোক আফাজ উদ্দিন আহমেদের মৃত্যুতে কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের শোক কুষ্টিয়ায় মুজিব শতবর্ষে বৃক্ষ নিধনের প্রতিবাদে বিশাল মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান

স্বাধীনতা বিরোধীদের বিষ দাঁত উপড়ে ফেলা হবে- মুজিবনগর দিবসে মাহবুবউল আলম হানিফ এমপি

মেহেরপুর প্রতিনিধি: / ১৮০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : শনিবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২১, ৫:৩২ pm

১৭৫৭ সালে পলাশির আম্রকাননে স্বাধীনতার যে সূর্য অস্তমিত হয়ে বাংঙ্গালী জাতি দুইশত বছরের পরাধীনতার শৃংখলে আবদ্ধ হয়ছিল। ১৯৭১ সালে ১৭ ই এপ্রিল বৈদ্যনাথতলা (মুজিবনগর)আম্রকাননে সেই সূর্য আবার উদিত হয়েছিল কিন্তু তারপরেও আস্ফালন বন্ধ হয়নি স্বাধীনতা বিরোধী মীর জাফরদের।

 

 

তারই প্রেক্ষাপটে শনিবার (১৭ এপ্রিল) ১১টার দিকে মুজিবনগরে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসে এক প্রেস বিফ্রিংএ বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহাবুবুল আলম হানিফ এমপি বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছরের মাথায় দাড়িয়েও স্বাধীনতা বিরোধি শক্তির আস্ফালন দেখছি। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নামে ধর্মকে ব্যবহার করে দেশকে অস্থিতিশিল করার চেষ্টা করছে তারা। যারা স্বাধীনতা যুদ্ধে বিরোধিতা করেছিল, যারা বাংলাদেশের সংবিধান মানতে চাইনা, যারা এখনো জাতীয় পতাকাকে সম্মান করতে চাইনা তারা স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে থাকার অধিকার রাখে না। হেফাজত বলেন আর জামায়াত বলেন এরা সবই স্বাধীনতা বিরোধী। স্বাধীনতা বিরোধীদের বীজ অনেক গভীরে চলে গেছে।

 

 

এজন্য স্বাধীনতার ৫০ বছরে এসেও তাদের আস্ফালন দেখতে হচ্ছে। স্বাধিনতার সুবর্ন জয়ন্তিতে এসে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যখন দেশ উন্নয়নের পথে অগ্রসর হচ্ছে। ঠিক সেই সময় উন্নয়নকে বাধাগ্রস্থ করার জন্য একাত্তরের পরাশক্তিরা বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের বিষ দাত উপড়ে ফেলে দিয়ে শেখ হানিার নেতৃত্বে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবো। অনেক জীবন এবং এক সাগর রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ পেয়েছিল তার আসল বাস্তবতা।

 

 

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞগণ বাঙালী জাতির আন্দোলনের কারণ সম্পর্কে সেই ১৮৮৫ সাল থেকে শুরু করে ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন পর্যন্ত অনেক ঘটনায় উল্লেখ করেছেন। বাংলাদেশীদের স্বপ্ন চুড়ান্ত ভাবে বাস্তবায়িত হয়েছিল ১৯৭১ সালে ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর আম বাগানে । যেখানে বাংলাদেশের প্রথম সরকার শপথ নিয়েছিল। সেখানে সেই মহতী অনুষ্ঠান প্রত্যক্ষ করেছিলেন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক, সাংবাদিক, পর্যবেক্ষক এবং বিশিষ্ট রাজনীতিবিদগণ। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র নামে একটি রেডিও সেন্টার স্থাপন করে প্রথম সরকারের শপথ অনুষ্ঠান সারাদেশে সমপ্রচার করা হয়েছিল এবং মুজিবনগর সেদিন পেয়েছিল ঐতিহাসিক মর্যাদা।

 

 

১০ এপ্রিল ১৯৭১ এক ঘোষনার মাধ্যমে গণ-প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার গঠিত হয়েছিল যা মুজিবনগর থেকে ইস্যু করা হয়েছিল । এখানে উল্লেখ্য এই ঘোষনা বাঙালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পূর্বের ঘোষনাকে দৃড়ীকরন করে। বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে বাংলাদেশের প্রথম প্রবাসী সরকারের রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন জনাব তাজউদ্দীন আহমেদ। সে সময় পাকিস্তানী সামরিক বাহিনী মেহেরপুরকে করতলে নিলেও পৌঁছুতে পারেনি বৈদ্যনাথতলায়। তদানীন্তন মেহেরপুর মহাকুমার বাগোয়ান ইউনিয়নের নিভৃত পল্লী বৈদ্যনাথতলা। স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন সমস্ত সময়টুকু এ জায়গাটি ছিল নির্বিঘ্ন। ব্রিটিশ শাসনামলে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার অন্তর্গত মেহেরপুর ছিল মহাকুমা শহর । সে সুবাদে কলকাতার সাথে এই বৈদ্যনাথতলার সরাসরি সড়ক যোগাযোগের ব্যাবস্থা ছিল।

 

 

সরকার গঠনের পর মুজিবনগরকে অন্তবর্তীকলিন রাজধানী ঘোষনা করা হয়েছিল। পাশাপাশি স্বাধীতার ফরমান জারি করে মুক্তিযুদ্ধ শুরু করা হয়েছিল। এই সময় ও শপথ গ্রহণের স্থানকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে বৈদ্যনাথতলা নাম পরিবর্তন করে নাম রাখা হয় মুজিবনগর। তখন থেকে ১৭ এপ্রিলকে বলা হয় মুজিবনগর দিবস। এবং সেই থেকেই এই দিনটি মুজিবনগর দিবস হিসাবে পালিত হয়ে আসছে। মুজিবনগর সরকার দেশকে ৬টি জোনাল কাউন্সিলে ভাগ করেছিল যা জনগনের সমস্যার দেখভাল করত। সে সময় মুজিবনগর হয়ে উঠেছিল বাংলাদেশের প্রেরণার উৎস এবং জাতির ভাবমূর্তি অক্ষ্ন্নু রাখতে যথাসম্ভব যাকিছু করার ছিল তাই করেছিল। মুজিবনগরে বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠন আমাদের মুক্তি সংগ্রামে এবং ইতিহাসে এক মাইল ফলক। যা বিশ্বকে সাহায্য করেছিল আমাদের মুক্তিয্দ্ধুকে সমর্থন করতে। পরবর্তীতে চুড়ান্তভাবে স্বীকৃত পেয়েছিল একটি নতুন স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে। স্বাধীনতার পর থেকে দিবসটি জাকজমকের সাথে পালন করে আসছে আওয়ামীলীগ কিন্তু গত বছর থেকে করোনার প্রাদুর্ভাবের কারনে সীমিত আয়োজনে মুজিবনগর দিবস পালন করা হয়েছে। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের পক্ষে সীমিত আয়োজনে অংশ নেন হানিফ।

 

 

এসময় তিনি আরও বলেন, ১৭ এপ্রিল ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস বাঙালি জাতির কাছে একটি স্বরনীয় দিন। ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি করে সরকার গঠনের পর ১৭ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে এই মুজিবনগরে সেই সরকার শপথ গ্রহন করেন। সেই সরকারের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে মাত্র ৯ মাসে আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ লাভ করি। সেই দিনটিকে স্বরণ করতে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ও মেহেরপুর ১ আসনের সংসদ সদস্য ফরহাদ হোসেন, জাতীয় সংসদ এর হুইপ জয়পুরহাট ১ আসনে এমপি আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, মেহেরপুর ২ আসনের সাংসদ সাহিদুজ্জামান খোকন, মেহেরপুর ২ এর সাবেক এমপি মকবুল হোসেন, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ খালেক, জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ মুনসুর আলম খান, পুলিশ সুপার এস এম মুরাদ আলি, মেহেরপুর পৌর মেয়র মাহফুজুর রহমান রিটন প্রমুখ। এর আগে সকাল ৬টায় জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে মুজিবনগর দিবসের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।

 

পরে সকাল সাড়ে দশটার দিকে মাহাবুবুল আলম হানিফ এর নেতৃত্বে স্মৃতিসৌধে পুস্পস্তবক অর্পণ জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এ সময় বিউগল এর সুরে বাংলাদেশর পুলিশ ও আনসার ব্যাটেলিয়ন এর একটি চৌকশ দল অতিথিদের গার্ড অফ অনার প্রদান করে।




আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

ব্রেকিং নিউজ
ব্রেকিং নিউজ